বিশ্বব্যাপী পণ্যসামগ্রীর বাজারে গত মাসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কমে আসা। এছাড়া ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও এ সময় পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়ার বড় কারণ।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরজুড়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৪ হাজার ৩৮১ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছে। গত মাসে রুপার দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়ায় ৫৪ ডলার ৭০ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৩৪ ডলারে পৌঁছে, যা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
এ বিষয়ে স্যাক্সো ক্যাপিটালের হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি ওলে হানসেন বলেন, ‘স্বর্ণের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমে এসেছে। তবে এ প্রবণতা স্বল্পমেয়াদি। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের প্রতিষ্ঠানগুলো রিজার্ভ বৈচিত্র্যের কারণে স্বর্ণের মজুদ এখনো বাড়াচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার তথ্যের কারণে ২০২৬ সালে ফেড সুদহার আরো কমাতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম সামনের দিনগুলায় আরো বাড়বে।’
গত মাসে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধি ধাতবপণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) মজুদ হ্রাসের কারণে গত মাসে দস্তার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তামা ও সিসার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩ ও ১ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে গত মাসে নিকেলের দাম কমেছে দশমিক ৩ শতাংশ।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি ও বাড়তি সরবরাহের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এ সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের দাম কমে এসেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর তা কিছুটা বেড়েছে। অক্টোবরে কৃষিপণ্যের মধ্যে সয়াবিনের দাম ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। চীনে চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে গমের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। কফির দাম অক্টোবরজুড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড পাউন্ডপ্রতি ৪ ডলার ৩৮ সেন্টে পৌঁছেছে।
এশিয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে চালের দাম বেশ কয়েকদিন ধরেই নিম্নমুখী। গত মাসে খাদ্যশস্যটির দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও ভারতের ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের কারণে এ সময় চিনির দাম ১৪ শতাংশ কমে পাউন্ডপ্রতি ১৪ সেন্টে নেমেছে।